কিশোরগঞ্জ খাদ্য বিভাগে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, দুদকে তদন্তের দাবি

1 মিনিটে পড়ুন

কিশোরগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় ও জেলার বিভিন্ন খাদ্যগুদামে ধান-চাল সংগ্রহ, সরকারি খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও বরাদ্দের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করেছেন কিশোরগঞ্জের কয়েকজন বাসিন্দা। অভিযোগকারীরা নিজেদের নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

দুদক চেয়ারম্যান বরাবর দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের আমন ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রমে কিশোরগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এবং তাঁর অধীন বিভিন্ন খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে দাবি করা হয়, প্রতি টন চাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ১৭ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে। এ হিসাবে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা বা তারও বেশি অর্থ দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব, কুলিয়ারচর, নিকলী, কটিয়াদি, পাকুন্দিয়া, করিমগঞ্জ, তাড়াইল ও কিশোরগঞ্জ সদর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কাবিখা, জিআর, বিজিএফ, খাদ্যবান্ধব ও টিসিবির জন্য সংগ্রহ করা চাল গুদামে রেখে পরবর্তীতে ২০২৫ সালের আমন সংগ্রহের চাল হিসেবে দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, পুরোনো চালকে নতুন আমন সংগ্রহের চাল হিসেবে দেখিয়ে বিভিন্ন খাদ্যগুদামের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ জেলার বেশ কয়েকটি রাইস মিল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকার পরও সেসব মিলের বিপরীতে চাল বরাদ্দ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বন্ধ থাকা এসব চালকলের অনেকগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগও দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এরপরও সেসব মিলের নামে সরকারি চাল সংগ্রহ ও বরাদ্দ দেখানোর বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন বলে অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেছেন।

অভিযোগে কিশোরগঞ্জ সদর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম রিয়াদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে তিনি জেলা খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে কেউ সহজে মুখ খুলতে সাহস পান না—এমন অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আনসার সদস্যদের মাসিক রেশনের চালের একটি বড় অংশ কম দামে সংগ্রহ করে পরবর্তীতে সরকারি সংগ্রহ হিসেবে বেশি দামে দেখানোর অনিয়ম করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এ প্রক্রিয়ায় প্রতি কেজি চাল প্রায় ৩৫ টাকা দরে সংগ্রহ করে তা ৫০ টাকা কেজি দরে সংগ্রহ দেখানোর অভিযোগ রয়েছে।

তবে অভিযোগে উত্থাপিত এসব তথ্যের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। পরবর্তী পর্বে অভিযুক্তদের বক্তব্য প্রকাশের ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযোগকারীরা খাদ্য বিভাগের নথিপত্র, চাল সংগ্রহের হিসাব, সংশ্লিষ্ট রাইস মিলগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা, বিদ্যুৎ সংযোগের তথ্য এবং সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ও বিতরণসংক্রান্ত রেকর্ড যাচাই করে বিষয়টির তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

তাদের দাবি, অভিযোগগুলো তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও চালকল মালিকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনসহ প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

চলবে…(১ম পর্ব)

শেয়ার করুন