ঘনঘন লোডশেডিং-অস্বাভাবিক বিল, কাশিয়ানী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ

1 মিনিটে পড়ুন

ঘনঘন লোডশেডিং, অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল, মিটার রিডিংয়ে অসঙ্গতি, সেবার নামে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে গোপালগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাশিয়ানী জোনাল অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। এসব কারণে চরম হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। একদিকে বিদ্যুতের ঘনঘন আসা-যাওয়া, অন্যদিকে সংশ্লিষ্টদের স্বেচ্ছাচারিতায় গ্রাহকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম অসন্তোষ।

গ্রাহকদের অভিযোগ, দিন-রাত মিলিয়ে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যায়। কোনো কোনো এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্যেও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকরা।

কাশিয়ানী সদর বাজারের ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম অভির অভিযোগ, তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তিনটি ফ্রিজ, দুটি ফ্যান ও পাঁচটি লাইট রয়েছে। সাধারণত প্রতি মাসে তার বিদ্যুৎ বিল ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে আসে। অথচ মে, জুন ও জুলাই—এই তিন মাসের সমন্বিত বিল এসেছে ৩৮ হাজার ১৪৭ টাকা।

অস্বাভাবিক এ বিলের বিষয়ে জানতে এবং সমাধানের জন্য কাশিয়ানী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে কোনো প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। বরং অস্বাভাবিক বিল পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া হয়। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েন ওই তরুণ উদ্যোক্তা। একপর্যায়ে ব্যবসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে উপজেলার হিরণ্যকান্দি গ্রামের বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম জানান, এপ্রিল মাসে তার মিটারে ৭০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখানো হয়। পরের মাস মে-তে একই মিটারে ১৪০ ইউনিটের বিল করা হয়। এরপর জুন, জুলাই ও আগস্ট—এই তিন মাস মিটারে রিডিং ‘শূন্য’ দেখালেও প্রতিমাসে ১৪০ ইউনিট করে বিল পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ তার।

বিষয়টি সমাধানের জন্য বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে প্রতিকার না পেয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অনলাইনে লিখিত অভিযোগ করেন শরিফুল ইসলাম। পরে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন তার বাড়িতে গিয়ে মিটার খুলে নিতে চাইলে তিনি এতে বাধা দেন। পরবর্তীতে বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে তার বিদ্যুৎ বিল সমন্বয় করে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

এদিকে উপজেলার ওড়াকান্দি গ্রামে ইসরাফিল মোল্লা নামে এক গ্রাহকের বাড়িতে নিয়মবহির্ভূতভাবে খুঁটি স্থাপন ও বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশের অভিযোগও করেছেন স্থানীয়রা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই গ্রাহকের নিকটবর্তী সার্ভিস পোল থেকে তার বসতঘরের দূরত্ব প্রায় ১৩০ ফুট। প্রতিবেশীর বাধার কারণে অতিরিক্ত খুঁটির প্রয়োজন হলে গ্রাহক রামদিয়া সাব-জোনাল অফিসে যোগাযোগ করেন। পরে এক স্প্যান লাইন নির্মাণ বাবদ তাকে ২৮ হাজার ১৪৮ টাকার ডিমান্ড নোট দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, গ্রাহকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়ার পর রামদিয়া অফিসকে না জানিয়ে কাশিয়ানী অফিস থেকে খুঁটি স্থাপন করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়। অথচ রামদিয়া অফিসে ওই ২৮ হাজার ১৪৮ টাকা জমা দেওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

গ্রাহকদের অভিযোগ, সেবার নামে অর্থ আদায়, মিটার রিডিংয়ে অসঙ্গতি ও অস্বাভাবিক বিলসহ কাশিয়ানী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের বিরুদ্ধে এমন আরও নানা অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।

এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাশিয়ানী জোনাল অফিসের ডিজিএম গোলাম ফারুক মীরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে।’

তবে ডিমান্ড নোটের টাকা জমা না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ওই গ্রাহক বিনামূল্যে ও নিয়ম মেনেই বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছেন।

শেয়ার করুন