1 মিনিটে পড়ুন
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়া এলাকায় গভীর রাতে পূর্ব শত্রুতার জেরে একটি প্রাইভেট কারের গতিরোধ করে হামলা, মারধর, কুপিয়ে জখম, স্বর্ণালংকার লুট এবং গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে মো. ফারহান মুন্না, ফাহিম রায়হান, মো. সামি, মো. ওমর, মো. ইরফান, মো. সিফাত, মো. আরমান ও সায়েদ আহনাফ হোসেনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে মোহাম্মদপুর থানাধীন লালমাটিয়া ব্লক-এ পানির ট্যাংকির সামনে এ ঘটনা ঘটে। বাদী ফারজানা কবির শান্ত অভিযোগ করেন, তিনি স্বামী, শিশু সন্তান, শাশুড়ি ও দুই ননদকে নিয়ে পুরান ঢাকায় একটি দাওয়াত থেকে প্রাইভেট কারে বাসায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে লালমাটিয়া এলাকায় পৌঁছালে পূর্ব শত্রুতার জেরে অভিযুক্তরা একটি ফুচকার ভ্যান, একটি প্রাইভেট কার ও কয়েকটি মোটরসাইকেল দিয়ে তাদের গাড়ির পথরোধ করে।
অভিযোগে বলা হয়, গাড়ি থেকে নেমে পথরোধের কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা বাদীর স্বামী আবু নাইমকে এলোপাতাড়ি মারধর করে আহত করে। একপর্যায়ে সায়েদ আহনাফ হোসেন তার বাম কানে লাথি মারেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর বাদীর দুই দেবর আব্দুল্লাহ আল নাহিদ ও নাজমুল হাসান ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার করতে গেলে ফারহান মুন্না ধারালো চাকু দিয়ে নাহিদের মাথায় আঘাত করেন। মো. সামি ও মো. ওমর সামুরাইয়ের উল্টো পিঠ দিয়ে তার পিঠে আঘাত করেন। ফাহিম রায়হান নাজমুল হাসানের কাঁধে এবং সায়েদ আহনাফ হোসেন তার পিঠে সামুরাইয়ের উল্টো পিঠ দিয়ে আঘাত করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তরাও মারধরে অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় বাদীর ননদের গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ও একটি হাতঘড়ি এবং শাশুড়ির গলায় থাকা প্রায় চার ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায় হামলাকারীরা। লুট হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। এছাড়া হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রাইভেট কারে আঘাত করে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে।
চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে দুই আহত চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চিকিৎসা ও পারিবারিক পরামর্শ শেষে বাদী মোহাম্মদপুর থানায় এসে এজাহার দায়ের করেন। অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ।






