নবীনগরে নিজ গ্রাম শাহবাজপুর থেকে ইমাম হাসান বাতেনের প্রথম নির্বাচনী প্রচারণা শুরু

১ মিনিটে পড়ুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের শাহবাজপুর গ্রামের কৃতি সন্তান ও শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, নবীনগর উপজেলা বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক, শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক দুইবারের সভাপতি মোঃ ইমাম হাসান বাতেনের নিজ গ্রাম থেকে প্রথম নির্বাচনী প্রচারণা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে শাহবাজপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মাঠে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সাবেক ইউপি সদস্য শিরু মিয়া মেম্বারের সভাপতিত্বে এবং ডাক্তার মাসুমের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ইউপি সদস্য বাবু মেম্বার। অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ছিলেন মোঃ ইসহাক সরকার।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন মোঃ মহিউদ্দিন মাসুম।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফয়েজুর রহমান রিপন, মোঃ হুমায়ুন কবির, মোঃ গিয়াস উদ্দিন, মোঃ সায়েম মুন্সি, মোঃ শাহজাহান সিদ্দিক, মোঃ জাফর ইকবাল মানিকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

সভায় শাহবাজপুর গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, শাহবাজপুর গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা হচ্ছে এলাকার রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন। গ্রামের মানুষের প্রত্যাশা ও দাবিগুলো বাস্তবায়নে স্থানীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি জনগণের ঐক্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তারা উল্লেখ করেন।

বক্তারা আরও বলেন, শাহবাজপুর গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম নাছির উদ্দিন সরকার চেয়ারম্যান থাকাকালে গ্রামের রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছিলেন। বিশেষ করে বর্ষাকালে কাঁচা ও চলাচলে দুর্ভোগপূর্ণ সড়ক দিয়ে মানুষের যাতায়াতের যে সমস্যা ছিল, বিভিন্ন রাস্তা পাকা হওয়ার পর তা অনেকটাই কমে আসে। বক্তারা মরহুম নাছির উদ্দিন সরকারের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাঁর অসমাপ্ত কাজগুলো এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সভায় বক্তারা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ ইমাম হাসান বাতেনের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতার আহ্বান জানান। তারা বলেন, নির্বাচনী প্রচারণা শুধু একজন প্রার্থীর পক্ষে সম্ভব নয়; এলাকার মানুষের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুসংগঠিত প্রচারণা পরিচালনা করা প্রয়োজন।

সভায় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ ইমাম হাসান বাতেন বলেন,  উপস্থিত পরম শ্রদ্ধেয় মুরুব্বিয়ান, তরুণ ও যুবসমাজ এবং আমার স্নেহের ভাই ও বোনেরা—আপনাদের সবাইকে জানাই আমার আন্তরিক সালাম ও শুভেচ্ছা।

তিনি বলেন, “আজ আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে অত্যন্ত ধন্য মনে করছি। আমি এখানে কোনো শাসক হিসেবে নয়, বরং আপনাদের ঘরের সন্তান এবং একজন নিবেদিতপ্রাণ সেবক হিসেবে উপস্থিত হয়েছি। এই মাটি এবং এই মানুষের প্রতি আমার ঋণ চিরকালের।”

তিনি সর্বপ্রথম শাহবাজপুর গ্রামের কৃতি সন্তান ও শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম নাছির উদ্দিন সরকারকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

ইমাম হাসান বাতেন বলেন, “তিনি আমাদের গ্রামের জন্য অনেক কিছু করে গেছেন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন।”

নিজের ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, “আমি আপনাদের গ্রামেরই সন্তান। আমার জীবনের চলার পথে কারও সঙ্গে আচরণ করতে গিয়ে যদি কোনো সময় কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকি, তাহলে আমাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আমি আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা নিয়ে এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “আমি একা কোনো কিছু করতে পারব না। আপনারা যদি আমাকে আপনাদের সন্তান ও ভাই হিসেবে পাশে দাঁড়ান, সহযোগিতা করেন এবং প্রত্যেক ভোটারের কাছে গিয়ে আমার জন্য দোয়া ও সমর্থন চান, তাহলে আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য কাজ করতে পারব।”

তিনি বলেন, “একটি আদর্শ ও আধুনিক ইউনিয়ন গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে আমি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে আপনাদের দোয়া, সমর্থন ও ভালোবাসা কামনা করছি। আমি বিশ্বাস করি, জনপ্রতিনিধিত্ব কেবল একটি পদ বা ক্ষমতা নয়; এটি একটি পবিত্র আমানত এবং জনগণের সেবা করার মাধ্যম।”

নিজের অতীত কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে ইমাম হাসান বাতেন বলেন, “আমি শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি হিসেবে দুইবার দায়িত্ব পালন করেছি। সে সময়ে প্রতিষ্ঠানে প্রায় দেড় কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। আমি যদি আপনাদের ভোট ও সমর্থনে নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে শাহবাজপুরসহ শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের উন্নয়নে কাজ করার চেষ্টা করব।”

তিনি তাঁর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, নির্বাচিত হলে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখার চেষ্টা করবেন এবং সরকারি অনুদান ও সহায়তা প্রকৃত দুস্থ ও প্রাপ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেবেন।

তিনি আরও বলেন, “এলাকার রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে চাই।”

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নয়ন, তরুণ প্রজন্মের মেধা বিকাশে আইসিটি ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং দরিদ্র মানুষের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সহজতর করার বিষয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

যুবসমাজ প্রসঙ্গে ইমাম হাসান বাতেন বলেন, “আমাদের যুবসমাজ আমাদের শক্তি। তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, মাদক থেকে দূরে রাখা এবং একটি সুন্দর সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য কাজ করতে চাই।”

তিনি বলেন, “মাদক, চুরি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। কোনো পরিবার যেন মাদকের কারণে ধ্বংস না হয়—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

নাগরিক সেবা সহজীকরণের বিষয়ে তিনি বলেন, “জন্ম নিবন্ধন, চারিত্রিক সনদসহ সকল প্রকার নাগরিক সেবা কোনো প্রকার ভোগান্তি ও দালালের দৌরাত্ম্য ছাড়াই যেন মানুষ সহজে পায়, সেই ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব।”

তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তোমরাই এই এলাকার ভবিষ্যৎ। তোমাদের কর্মসংস্থান, মেধা ও শক্তির সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে আমরা একটি গতিশীল নেতৃত্ব তৈরি করতে চাই।”

ইমাম হাসান বাতেন আরও বলেন, “আমি চেয়ারম্যান হলে শুধু রাস্তা-ঘাট বা অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, মানুষের নিরাপত্তা, যুবসমাজের ভবিষ্যৎ, শিক্ষা ও সামাজিক শান্তির বিষয়েও গুরুত্ব দিতে চাই। শাহবাজপুর আমার নিজের গ্রাম। এই গ্রামের মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে আমি সবসময় থাকতে চাই।”

তিনি বলেন, “ভুলত্রুটি মানুষেরই হয়। অতীত ও বর্তমানের সকল ভালো কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে এবং ব্যর্থতাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই। আমার কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই, আমার একমাত্র লক্ষ্য আপনাদের মুখে হাসি ফোটানো এবং এলাকার উন্নয়ন করা।”

শেষে তিনি শাহবাজপুরবাসীর কাছে দোয়া, ভালোবাসা ও সহযোগিতা কামনা করেন এবং সবাইকে নিয়ে একটি সুশৃঙ্খল, উন্নত ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সভায় সাবেক সফল চেয়ারম্যান মরহুম নাছির উদ্দিন সরকারের ছেলে বশির উদ্দিন সরকার ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন।
বাবার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “আপনারা সবাই জানেন, আমাদের শ্রদ্ধেয় প্রয়াত বাবা দীর্ঘ সময় ধরে এই এলাকার চেয়ারম্যান হিসেবে আপনাদের সেবা করে গেছেন। আজ বাবা আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শ, সততা এবং আপনাদের দেওয়া ভালোবাসা আমাদের পরিবারের জন্য আজীবন বড় একটি সম্পদ হয়ে থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “বাবা আজীবন এই এলাকার মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন দেখতেন। বাবার সেই স্বপ্ন, আদর্শ এবং রাজনৈতিক শিক্ষা বুকে ধারণ করেই বড় হয়েছে আমার ভাই ইমাম হাসান বাতেন।”
বশির উদ্দিন সরকার তাঁর বক্তব্যে বলেন, তাঁর ভাই ইমাম হাসান বাতেন তাঁর বাবার বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও তাঁকে সহযোগিতা করেছেন।
তিনি বলেন, “বাবার মৃত্যুর পর তাঁর অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করতে এবং এলাকার উন্নয়নের ধারাকে সচল রাখতে একজন অভিজ্ঞ নেতৃত্বের প্রয়োজন। ভাই হিসেবে নয়, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবেও আমি মনে করি, বাবার আদর্শ ও কাজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে ইমাম হাসান বাতেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “বাবার প্রতি আপনাদের যে ভালোবাসা ও আস্থা ছিল, তার প্রতি সম্মান রেখে আপনারা ইমাম হাসান বাতেনের পাশে থাকবেন—এটাই আমার প্রত্যাশা।” আর আমার বাবার জন্য সবাই দোয়া করবেন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেন আমার বাবাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন।

সভায় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে সংক্ষিপ্ত মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ, শ্যামগ্রাম ইউনিয়নবাসীর সার্বিক মঙ্গল এবং মরহুম নাছির উদ্দিন সরকারের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। এছাড়াও এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়।

শেয়ার :
শেয়ার করুন
সর্বশেষ