1 মিনিটে পড়ুন
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের হিসাবরক্ষক মো. মাজহারুল ইসলামকে ঘিরে দায়িত্বের বাইরে প্রভাব বিস্তার, বদলি-পদায়নে হস্তক্ষেপ এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহারের নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে তাকে মন্ত্রীর দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, মো. মাজহারুল ইসলামকে ভোলা জেলার বোরহানউদ্দীন পৌরসভায় সংযুক্তির জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের ৬ মে ২০২৫ তারিখের এক অফিস আদেশ জারি করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রশাসন-১ শাখার উপসচিব মো. আকবর হোসেন স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে ওই সংযুক্তির আদেশটি প্রত্যাহার করা হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের ৪৬.০০.০০০০.০৩৯.১৯.০০২.২০১৯-১৬৩১ নম্বর অফিস আদেশে বলা হয়, ৬ মে ২০২৫ তারিখের ৪৬.০০.০০০০.০৩৯.১৯.০০২.২০১৯-৪৮৩ নম্বর স্মারকে জারি করা মো. মাজহারুল ইসলামের বোরহানউদ্দীন পৌরসভায় সংযুক্তির অফিস আদেশটি প্রত্যাহার করা হলো। আদেশে আরও বলা হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
তবে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বদলির ওই আদেশ প্রত্যাহারের পেছনে প্রশাসনিক কারণের পাশাপাশি প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপ ছিল। এমনকি অর্থের বিনিময়ে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির মাধ্যমে বদলি বাতিল করিয়ে মাজহারুল ইসলাম পুনরায় স্বপদে ফিরে আসেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। যদিও সরকারি ওই অফিস আদেশে অর্থ লেনদেন বা কোনো ব্যক্তির প্রভাবের কথা উল্লেখ নেই। অভিযোগটির সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট নথি, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
অভিযোগ রয়েছে, হিসাবরক্ষক পদে কর্মরত মো. মাজহারুল ইসলাম বর্তমানে মন্ত্রীর দপ্তরে ‘ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব)’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, তৃতীয় শ্রেণির একজন হিসাবরক্ষক কীভাবে মন্ত্রীর দপ্তরে ব্যক্তিগত কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন এবং এ দায়িত্ব প্রদানের প্রশাসনিক ভিত্তি কী—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অভিযোগকারীদের দাবি, মন্ত্রীর দপ্তরে ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য পৃথক কর্মকর্তা পদায়িত থাকা সত্ত্বেও হিসাবরক্ষককে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সরকারি ওয়েবসাইটে দায়িত্ব ও পদবি সংক্রান্ত তথ্য পরিবর্তনের বিষয়টিও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
মাজহারুল ইসলাম নিজেকে বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচয় দিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরের বদলি ও পদায়নে প্রভাব বিস্তার করছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি-পদায়নে তার কথিত প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন, বদলি এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এমনকি বদলি-পদায়নের ক্ষেত্রে তার সঙ্গে যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেনের প্রয়োজন হয়—এমন অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রয়োজন হলে তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে অনুসন্ধান করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
এ ছাড়া মন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার পরিচয় ব্যবহার করে এলজিইডির একটি পাজেরো জিপ ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। এতে সরকারি অর্থের উল্লেখযোগ্য ব্যয় হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। গাড়িটি কোন আদেশ ও অনুমোদনের ভিত্তিতে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা প্রকাশেরও দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ১১ থেকে ২৪ জুন ২০২৬ পর্যন্ত চীনে অনুষ্ঠিত একটি প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার সময় সরকারি আদেশে মো. মাজহারুল ইসলামের পদবি ও দায়িত্ব কীভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল, সেটিও তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদেশ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একজন হিসাবরক্ষক যদি নিয়মিত দায়িত্বের বাইরে মন্ত্রীর দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কাজে প্রভাব বিস্তার করেন, তাহলে এতে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। এর ফলে সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাই মো. মাজহারুল ইসলামের অতিরিক্ত দায়িত্বের বৈধতা, ২০২৫ সালে বোরহানউদ্দীন পৌরসভায় সংযুক্তির আদেশ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া, কথিত অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, বদলি-পদায়নে প্রভাব বিস্তার, সরকারি গাড়ি ব্যবহার, বিদেশ প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে মন্ত্রীর দপ্তরের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে হিসাবরক্ষক হিসেবে তার নিয়মিত দায়িত্বে ফেরত পাঠানোরও দাবি উঠেছে।
তবে মো. মাজহারুল ইসলামের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।







