নবীনগরে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এমপি আব্দুল মান্নানের কঠোর হুঁশিয়ারি

১ মিনিটে পড়ুন

বর্ণাঢ্য আয়োজন, খণ্ড খণ্ড মিছিল আর বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নবীনগরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজনে উঠে এসেছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের স্মৃতি, নেতাকর্মীদের ত্যাগের কথা এবং সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করার প্রত্যয়।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় নবীনগর মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে উপজেলা ও পৌর যুবদলের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় বিশাল আলোচনা সভা। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সভাস্থলে উপস্থিত হন। ব্যানার-ফেস্টুনে সাজানো মাঠে নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতিতে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও নবীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মান্নান।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, “আজ নবীনগর প্রমাণ করেছে, এটি যুবদলের ঘাঁটি। বিগত সরকারের আমলে আপনারা নানা ধরনের হয়রানি, মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন। রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আপনারা নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছেন। আপনাদের এই ত্যাগ ও সাহসকে আমি সম্মান জানাই।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে, ইনশাআল্লাহ।”

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর বার্তাযুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময় অপপ্রচার চালানো হয় উল্লেখ করে এমপি আব্দুল মান্নান বলেন, “আমি নবীনগরবাসীকে বলতে চাই, নবীনগরে আমার দলের কোনো নেতাকর্মী চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নয়—এমনটাই আমার দৃঢ় বিশ্বাস। যারা বিএনপি করেন, তাঁদের প্রতি আমার আহ্বান, কেউ কোনো ধরনের চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত হবেন না।”

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বিএনপির কোনো নেতাকর্মী চাঁদাবাজিতে জড়িত হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

তাঁর এই বক্তব্যে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সততা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীল আচরণের গুরুত্ব বিশেষভাবে উঠে আসে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন এবং জনস্বার্থে কাজ করার আহ্বানও ছিল তাঁর বক্তব্যের অন্যতম দিক।

উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান দুলালের সভাপতিত্বে সভাটি পরিচালনা করেন উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব হাজী আবু কাওসার আহমেদ ও পৌর যুবদলের সদস্যসচিব ইমাম হোসেন অনিক। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন যুবদল নেতা মাওলানা মো. হেলাল উদ্দিন।

সভায় বিশেষ অতিথি ও অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. মলাই মিয়া, জেলা বিএনপির সদস্য মাসুদুল ইসলাম মাসুদ, নবীনগর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন সোহেল ও আশরাফ হোসেন রাজু, নবীনগর ইচ্ছাময়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ছাদিকুল ইসলাম ছাদির, পৌর বিএনপির সহসভাপতি হাসিবুল হাদিস শাহিন এবং পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শুক্কুর খান।

বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে যুবদলের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, সাংগঠনিক কার্যক্রম, অতীতের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি সংগঠনকে আরও শক্তিশালী, সুসংগঠিত ও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।

আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুপুরের পর থেকেই নবীনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সভাস্থলে আসতে শুরু করেন। বিএনপি, যুবদল ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে নেতাকর্মীরা সংগঠনের ঐক্য, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি সততা, শৃঙ্খলা ও চাঁদাবাজিমুক্ত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনই যে যেকোনো সংগঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ—এমন বার্তাও আলোচনায় বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়।

শেয়ার :
শেয়ার করুন