1 মিনিটে পড়ুন
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহ্যবাহী জনপদ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা এ জনপদের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় এখনো যেন উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত ছোঁয়া পৌঁছেনি।
স্বাধীনতার অর্ধশতক পেরিয়ে গেলেও শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের প্রধান কাঁচা সড়কটির বেহাল দশা যেন সেই বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। বছরের পর বছর রাস্তাটি পাকা না হওয়ায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এ দুর্ভোগ রূপ নেয় চরম ভোগান্তিতে।
স্থানীয়রা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই মাটির রাস্তাটি কাদা-পানি ও অসংখ্য খানাখন্দে পরিণত হয়। কোথাও সৃষ্টি হয় বড় বড় গর্ত, কোথাও জমে থাকে পানি ও কাদা। ফলে পায়ে হেঁটে চলাচল যেমন কঠিন হয়ে পড়ে, তেমনি রিকশা, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলেও দেখা দেয় চরম সমস্যা।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন অসুস্থ রোগী, গর্ভবতী নারী ও বয়স্করা। জরুরি প্রয়োজনে কোনো রোগীকে চিকিৎসাকেন্দ্রে নিতে হলে রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে স্বজনদের নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো নিয়েও তৈরি হয় শঙ্কা।
একইভাবে প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের চলাচল করতে হয়। বর্ষাকালে কাদা-পানি মাড়িয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর পোশাক ও শিক্ষা উপকরণ নষ্ট হয়। সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে গিয়েও উদ্বেগে থাকেন অভিভাবকরা।
এলাকাটি কৃষিপ্রধান হওয়ায় সড়কের দুরবস্থার প্রভাব পড়ছে কৃষকদের ওপরও। উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে বাড়তি সময় ও পরিবহন খরচ গুনতে হচ্ছে তাদের। অনেক সময় রাস্তার কারণে পণ্য পরিবহনেও তৈরি হয় নানা জটিলতা।
স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও বলছেন, যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একটি ভালো রাস্তার অভাবে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা—সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়ছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। মাঝে মধ্যে সাময়িকভাবে মেরামত করা হলেও তা বেশিদিন স্থায়ী হয় না। বর্ষা এলেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় রাস্তাটি।
এ অবস্থায় স্থানীয়দের প্রশ্ন—দেশ যখন আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন একটি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ একটি ওয়ার্ডের মানুষ কেন এখনো কাঁচা রাস্তার দুর্ভোগে আটকে থাকবে?
এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান মহোদয় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের দীর্ঘদিনের সড়ক সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত রাস্তাটি সরেজমিনে পরিদর্শন এবং স্থায়ী পাকাকরণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, “আমরা কোনো বিশেষ সুবিধা চাই না, চাই আমাদের ন্যায্য অধিকার। একটি চলাচলযোগ্য ও পাকা রাস্তা আমাদের সন্তানদের শিক্ষা, রোগীদের চিকিৎসা, কৃষকদের পণ্য পরিবহন এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
তাদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের দাবি ও দুর্ভোগকে আর প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শ্যামগ্রাম ৫নং ওয়ার্ডের মানুষের কাঁচা রাস্তার দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে একটি নিরাপদ ও চলাচলযোগ্য সড়ক নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।





