মফস্বল সাংবাদিকতার ঐক্যের কারিগর আহমেদ আবু জাফর

1 মিনিটে পড়ুন

বাংলাদেশের সাংবাদিকতার মেরুদণ্ড মফস্বল। জেলা-উপজেলার অলিগলি থেকে উঠে আসা খবরগুলোই দেশের আসল ছবিটা আঁকে। অথচ এই সাংবাদিকদের লড়াইটা সবচেয়ে কঠিন। সীমিত সুযোগ, স্বল্প পারিশ্রমিক, রাজনৈতিক-প্রশাসনিক চাপ, মামলা-হামলার ঝুঁকি—সবকিছুর মাঝেও তারা থেমে থাকেন না।

দীর্ঘদিন এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ছিল না কোনো শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম। সেই শূন্যতা পূরণে গত দেড় দশক ধরে মাঠে-ময়দানে কাজ করে যাচ্ছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম-বিএমএসএফ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।

১. বিচ্ছিন্নতা ভেঙে জাতীয় কাঠামো
আহমেদ আবু জাফরের প্রধান অর্জন—মফস্বল সাংবাদিকদের বিচ্ছিন্ন অবস্থা থেকে একটি জাতীয় কাঠামোয় নিয়ে আসা।
তাঁর হাত ধরে দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় বিএমএসএফের কমিটি গড়ে উঠেছে। তৃণমূলের সাংবাদিক এখন আর একা নন। তাদের পেছনে আছে একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম।

২. অধিকার ও নিরাপত্তার লড়াই
বিএমএসএফের মাধ্যমে তিনি যেসব ইস্যুকে জাতীয় আলোচনায় এনেছেন:
– পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ
– নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন
– দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ
– ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ কালো আইন বাতিলের দাবি

কোনো সাংবাদিক নির্যাতিত হলে সেটিকে আর ব্যক্তিগত ঘটনা হিসেবে দেখা হয় না। বিএমএসএফ ঘটনাস্থলে যায়, প্রতিবাদ করে, মানববন্ধন করে, কলম বিরতি পালন করে এবং আইনি লড়াইয়ে পাশে দাঁড়ায়।

৩. বিভেদের ঊর্ধ্বে ঐক্যের আহ্বান
আহমেদ আবু জাফর বারবার বলেছেন, সাংবাদিকদের ঐক্য মানে দল-মতের ব্যানার নয়। এটা পেশার ঐক্য। রাজনৈতিক পরিচয়, অঞ্চল বা ব্যক্তিগত পছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে এক টেবিলে বসাতে চেয়েছেন তিনি।

তাঁর স্পষ্ট বার্তা: “সাংবাদিকতা হবে মানুষের কথা বলার মাধ্যম। কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষার হাতিয়ার নয়।”

৪. চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সম্ভাবনা
মফস্বলের বাস্তবতা কঠিন। এখানে সংবাদ লিখলেই হুমকি আসে। বিজ্ঞাপন নেই, প্রাতিষ্ঠানিক সাপোর্ট নেই। তবুও এই প্রতিকূলতার মাঝেই বিএমএসএফ সাংবাদিকদের অধিকার সচেতন করেছে। সম্মিলিতভাবে দাবি আদায়ের সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে।

একটি দীর্ঘ সংগঠনের পথে মতপার্থক্য, বিতর্ক থাকবেই। আহমেদ আবু জাফর সেগুলোকে অস্বীকার করেননি। বরং স্বচ্ছতা, গণতান্ত্রিক চর্চা ও জবাবদিহির মাধ্যমে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার কথা বলেছেন।

শেষ কথা
আহমেদ আবু জাফরকে শুধু একটি পদের নাম দিয়ে বিচার করা যাবে না। বিচার করতে হবে—তিনি কতগুলো কমিটি গঠন করেছেন, কতজন নির্যাতিত সাংবাদিকের পাশে দাঁড়িয়েছেন, কতবার মফস্বলের দাবি জাতীয় ফোরামে তুলেছেন।

আজকের দিনে মফস্বল সাংবাদিকদের সবচেয়ে বড় শক্তি ঐক্য। আর সেই ঐক্যের ভিত্তি গড়ার কারিগরদের মধ্যে আহমেদ আবু জাফরের নামটি উজ্জ্বল অক্ষরে লেখা থাকবে।

শেয়ার করুন