1 মিনিটে পড়ুন
কুড়িগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর আওতায় চলমান উন্নয়নমূলক কাজের বাস্তব অগ্রগতি, গুণগত মান ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সরেজমিনে যাচাই করতে মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করা হয়েছে। জেলার এক উপজেলা থেকে আরেক উপজেলায় চলমান প্রকল্পগুলো পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন ও তদন্ত করা হচ্ছে। সরকারের অর্থে বাস্তবায়নাধীন প্রতিটি প্রকল্প নির্ধারিত নকশা, প্রাক্কলন ও কারিগরি নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পন্ন হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্পের সরকারি নথিতেও কুড়িগ্রামে চলমান ও নতুন উন্নয়নকাজের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এসব প্রকল্প যথাযথ মানে বাস্তবায়ন এবং জনগণের কাঙ্ক্ষিত সুফল নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের তদারকি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের অগ্রগতি শুধু অফিসের নথিপত্রের ওপর নির্ভর করে মূল্যায়ন না করে সরেজমিনে গিয়ে বাস্তব অবস্থা যাচাই করা হচ্ছে। কোথায় কী কাজ চলছে, কাজের অগ্রগতি কতটুকু, ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান কেমন এবং অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না—এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিশেষ করে জেলার নাগেশ্বরী, ভূরুঙ্গামারী, ফুলবাড়ীসহ বিভিন্ন উপজেলায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পর্যায়ক্রমে নজরদারির আওতায় রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ত্রুটি বা ঘাটতি দেখা দিলে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
‘সরকারের উন্নয়নকাজ স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়ন করাই দায়িত্ব
এলজিইডি কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। প্রতিটি উপজেলায় চলমান উন্নয়নকাজের প্রকৃত অবস্থা জানা এবং কাজের মান নিশ্চিত করার জন্য সরেজমিনে তদন্ত ও তদারকি প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সরকার আমাদের যে দায়িত্ব দিয়েছে, সেটি স্বচ্ছতার সঙ্গে পালন করতে চাই। জেলার প্রতিটি উপজেলায় যে উন্নয়নমূলক কাজগুলো চলমান রয়েছে, সেগুলো যথাযথভাবে হচ্ছে কি না—তা সরেজমিনে দেখা ও তদন্ত করা আমার দায়িত্বের অংশ।
তিনি আরও বলেন, কাজ শুধু শেষ করলেই হবে না। কাজটি নির্ধারিত মান অনুযায়ী হয়েছে কি না, জনগণ সেই কাজের সুফল পাচ্ছেন কি না এবং কাজটি টেকসই হবে কি না—এসব বিষয়ও নিশ্চিত করতে হবে।
এলজিইডির আওতায় গ্রামীণ সড়ক, সেতু, কালভার্ট, ড্রেনেজসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্পের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এবং জরুরি সেবায় মানুষের যোগাযোগ সরাসরি সম্পৃক্ত।
এ কারণে উন্নয়ন প্রকল্পে গুণগত মান নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একটি প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে তার সুফল দীর্ঘদিন জনগণ ভোগ করতে পারেন। বিপরীতে নিম্নমানের কাজ হলে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি জনগণের দুর্ভোগও বাড়তে পারে।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, বাংলাদেশ সরকার দেশের বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কুড়িগ্রামেও সেই উন্নয়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এসব কাজ স্বচ্ছভাবে ও দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা আমাদের দায়িত্ব।
সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের পাশাপাশি এসব কাজের প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী।
তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়নমূলক কাজগুলো মানুষের সামনে তুলে ধরা এবং সেগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের উন্নয়নকাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা দেখা আমার দায়িত্ব। আমি আমার দায়িত্বের জায়গা থেকে কাজগুলো স্বচ্ছভাবে করে যেতে চাই।”
তাঁর মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকলে জনগণের আস্থা বাড়ে। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও নির্ধারিত মান বজায় রেখে কাজ করতে আরও দায়িত্বশীল হয়।
মাঠপর্যায়ের তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তদন্তের উদ্দেশ্য কাউকে হয়রানি করা নয়। বরং সরকারের অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্প নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী হচ্ছে কি না, সেটি নিশ্চিত করাই মূল উদ্দেশ্য।
কোনো প্রকল্পে ত্রুটি বা ঘাটতি পাওয়া গেলে তা সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, “তদন্তের মূল উদ্দেশ্য হলো কাজটি সঠিকভাবে হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা। কোথাও কোনো ত্রুটি থাকলে সেটি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত কোনো উন্নয়নকাজের মান নিয়ে আপস করার সুযোগ নেই।
স্থানীয়দের মতে, এলজিইডির উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে কুড়িগ্রামের গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে। তবে উন্নয়নকাজের সুফল দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে কার্যকর তদারকি প্রয়োজন।
নিয়মিত মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন থাকলে কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য পাওয়া যায় এবং কোনো ধরনের ত্রুটি থাকলে তা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়। একই সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজের ওপরও দায়িত্বশীলতা বাড়ে।
কুড়িগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় সরকারের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল যেন প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষও পান—এমন লক্ষ্যেই কাজ করে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, “সরকারের উন্নয়নমূলক কাজগুলো জনগণের জন্য। তাই এসব কাজের সুফল যেন তৃণমূল মানুষের কাছে পৌঁছে, সেটিই আমাদের লক্ষ্য। আমি দায়িত্বের জায়গা থেকে সরকারের উন্নয়নকাজগুলো স্বচ্ছভাবে, দক্ষতার সঙ্গে এবং যথাযথ মান বজায় রেখে করে যেতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “কাজের মান নিশ্চিত করা, প্রকল্পের অগ্রগতি দেখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তদন্ত করা নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। সরকারের উন্নয়নধারা অব্যাহত রাখতে আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।”
সরকারি অর্থে বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা, গুণগত মান ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের এই তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো আরও কার্যকর, মানসম্মত ও টেকসইভাবে বাস্তবায়িত হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।





