1 মিনিটে পড়ুন
সম্প্রতি একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিও প্রতিবেদনে আমার চাকরিজীবন, বেতন-ভাতা, ফ্ল্যাট ক্রয় এবং ব্যক্তিগত সম্পদ সম্পর্কে কিছু অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, যা আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরার পাশাপাশি এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।
আমি বিপ্লব কুমার রায়, গোপনীয় সহকারী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)-এর গোপনীয় শাখা, নরসিংদী। আমি প্রায় ২৬ বছর ধরে সরকারি চাকরিতে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছি।
প্রকাশিত ভিডিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আমার বেসিক বেতন ১১,০০০–১৬,৬৯০/- টাকা। প্রকৃতপক্ষে বর্তমানে আমার মূল বেতন ২৬,৫৯০/- টাকা। বাসা ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য ভাতাসহ বর্তমানে আমি প্রতি মাসে মোট ৪২,৬৫৪/- টাকা বেতন-ভাতা পেয়ে থাকি। অতএব, আমার বেতন সম্পর্কে প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য মিথ্যা।
এ ছাড়া প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, আমি ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছি। এ তথ্যও সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর। প্রকৃতপক্ষে আমি ২০২৩ সালে একটি পুরাতন ফ্ল্যাট ১৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মূল্যে ক্রয় করেছি।
উক্ত ফ্ল্যাট ক্রয়ের অর্থের উৎস সম্পর্কেও প্রকৃত তথ্য স্পষ্ট করা প্রয়োজন। আমি আমার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত জমি ও বাড়ি রয়েছে। আমার গ্রামের বাড়ি থেকে আমি প্রতি মাসে ১০,০০০/- টাকা বাসা ভাড়া পেয়ে থাকি। ফ্ল্যাটটি ক্রয়ের সময় আমার স্ত্রী তাঁর পৈতৃক পরিবারের পক্ষ থেকে বাড়ি নির্মাণের জন্য উপহার হিসেবে প্রাপ্ত ১০ লাখ টাকা প্রদান করেন। এর সঙ্গে আমি ও আমার স্ত্রীর দীর্ঘদিনের সঞ্চিত অর্থ যুক্ত করে উক্ত পুরাতন ফ্ল্যাটটি ক্রয় করা হয়েছে।
অতএব, ফ্ল্যাট ক্রয়ের অর্থ ব্যক্তিগত সঞ্চয় ও পারিবারিকভাবে প্রাপ্ত অর্থের সমন্বয়ে পরিশোধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে যে বিপুল অর্থের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যে প্রণোদিত।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে যে, আমার কাছে তথ্য জানতে চাওয়া হলে আমি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে ক্ষুব্ধ আচরণ করেছি এবং তাঁকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এ বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমি কোনো ব্যক্তিকে কোনো ধরনের ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব বা চেষ্টা করিনি। এ ধরনের অসত্য বক্তব্য শুধু আমার ব্যক্তিগত ও সামাজিক ভাবমূর্তিই নয়, আমার দীর্ঘদিনের পেশাগত মর্যাদাকেও ক্ষুণ্ন করার শামিল।
আমি মনে করি, কোনো ব্যক্তির চাকরিজীবন, বেতন-ভাতা, সম্পদ কিংবা ব্যক্তিগত বিষয়ে তথ্য প্রকাশ বা প্রচারের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে তথ্য যাচাই-বাছাই করা অত্যন্ত জরুরি। যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো অসত্য, অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করা হলে জনমনে ভুল ধারণার সৃষ্টি হতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের প্রতি আমার আহ্বান কোনো অভিযোগ বা বক্তব্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ, প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরা হোক। আমি মনে করি, তথ্য যাচাই, নিরপেক্ষতা ও উভয় পক্ষের বক্তব্য উপস্থাপন দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ নীতি।
আমি আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও গণমাধ্যমকর্মীরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন এবং প্রকাশিত অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রত্যাহারের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
পরিশেষে, আমার চাকরিজীবন, বেতন, ফ্ল্যাট ক্রয়, সম্পদ ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রকাশিত অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
বিপ্লব কুমার রায়
গোপনীয় সহকারী
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)-এর গোপনীয় শাখা, নরসিংদী।





