নবীনগরে শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে শিক্ষক ও অভিভাবকদের যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ

1 মিনিটে পড়ুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে বিদ্যালয়ের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মোস্তাক আহমেদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও সাংবাদিক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি ডক্টর মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রোস্তম আহমেদ, বিদ্যালয়ের অভিভাবক প্রতিনিধি মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম মামুন এবং শিক্ষক প্রতিনিধি সৈয়দা সুলতানা নুরুন্নাহার।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ আরমান আলী,ডাঃ মোঃ শাহজাহান সিদ্দিক, মোহাম্মদ নূরে আলম, ডেন্টাল চিকিৎসক মোহাম্মদ ফেরদাউস আহমেদ, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন শাকিব, মোহাম্মদ আবুল বাশার ও মোহাম্মদ লিটন খন্দকারসহ উপস্থিত অভিভাবক ও শিক্ষকবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডক্টর মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে শুধু শিক্ষকদের একার প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। একজন শিক্ষার্থীর সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সমন্বিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসছে কি না, বিদ্যালয় থেকে বাড়িতে ফিরে ঠিকমতো পড়াশোনা করছে কি না এবং তার দৈনন্দিন কার্যক্রম কেমন—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা, শৃঙ্খলাবোধ ও সুন্দর চরিত্র গঠনের প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সন্তানদের শুধু ভালো ফলাফলের জন্য চাপ সৃষ্টি না করে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। তাদের সমস্যা, আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য সম্পর্কে জানার পাশাপাশি সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারলেই শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় আরও মনোযোগী ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে।

অভিভাবক প্রতিনিধি মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম মামুন বলেন, বর্তমান সময়ে সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে তারা মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত আসক্ত হয়ে পড়ছে কি না, নিয়মিত পড়াশোনা করছে কি না এবং সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে বিদ্যালয়, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, বাড়িতে পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে একটি মেধাবী, সুশৃঙ্খল ও আদর্শ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব।

সভায় উপস্থিত অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মানোন্নয়নে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং ভবিষ্যতেও শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও মতবিনিময় অব্যাহত রাখার আশা প্রকাশ করেন।

সবশেষে শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, মানসম্মত শিক্ষা এবং একটি সুন্দর ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষক, অভিভাবক ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

শেয়ার করুন