শিবপুরের দুলালপুর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১০ মেম্বারের অনাস্থা: চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

1 মিনিটে পড়ুন

​নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোঃ মাহফুজুল হক শামীম মোল্লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন পরিষদের ১০ জন ইউপি সদস্য (মেম্বার)। চেয়ারম্যানের অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে এই অনাস্থা প্রকাশের ফলে বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কাজকর্মে স্থবিরতা নেমে এসেছে। এতে চরম ব্যাহত হচ্ছে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও নাগরিক সেবাকার্যক্রম।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন দুলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ০৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ মোগল মিয়া। ​সভায় উপস্থিত প্রতিনিধিরা জানান, এর আগে গত ২৫ আগস্ট ২০২৫ তারিখে চেয়ারম্যানের বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, নিয়মিত সভা না করা এবং একচ্ছত্র স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ১০ জন ইউপি সদস্য লিখিত অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করেছিলেন।

​অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক নিযুক্ত তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শিবপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার বিগত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে এক চিঠির মাধ্যমে বিশেষ সভাটির আহ্বান করেন। ওই তদন্তকারী কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই গত ২৮ জুলাইয়ের সভায় ইউপি সদস্যরা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তাদের অনাস্থার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং উপস্থিত ১০ জন সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে অনাস্থা প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করেন। চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতেই অনাস্থা প্রস্তাব অনুমোদন হয়, কিন্তু যথেষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অদৃশ্য কারণে তাঁর বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না—তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

​সেবাবঞ্চিত সাধারণ মানুষ অনাস্থা প্রস্তাব ও চেয়ারম্যানের এমন দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে পরিষদ কার্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম। নাগরিক সনদ, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স ও বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মতো জরুরি সেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ। উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ বন্ধ থাকায় অবকাঠামোগত অগ্রগতিও থমকে গেছে।

​সভায় ইউপি সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ​”চেয়ারম্যানের অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারী আচরণের কারণে দুলালপুর ইউনিয়নের সুশাসন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। পরিষদের সার্বিক উন্নয়ন ও এলাকার সাধারণ মানুষের স্বার্থরক্ষার্থেই আমরা ১০ জন সদস্য তাঁর ওপর থেকে সমস্ত আস্থা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছি।​পরিস্থিতির আশু সমাধানে এবং পরিষদের সেবা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ইউনিয়নবাসী।

শেয়ার করুন