মাদারীপুরে সরকারি রাস্তা কেটে দেয়াল নির্মাণ: প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও বিচার পাচ্ছেন না প্রবাসীর স্ত্রী সোনিয়া

1 মিনিটে পড়ুন

বিদেশে হাড়ভাঙ্গা খাটুনি করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন যে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা, তাদের অনুপস্থিতিতে দেশেই তাদের পরিবার কতটা অসহায় ও অবহেলিত, তার এক নির্মম উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার সোনিয়া বেগম। স্বামী মিন্টু ফরাজী প্রবাসে থেকে ঘাম ঝরাচ্ছেন, আর দেশে তার স্ত্রী নিজের বসতভিটা ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও পাচ্ছেন না কোনো প্রতিকার।

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ইসুবপুর ইউনিয়নের সাতবাড়িয়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা সোনিয়া বেগম। তার বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে এলজিইডি (খএঊউ) এর একটি সরকারি পাকা রাস্তা। অভিযোগ উঠেছে, একই এলাকার প্রভাবশালী প্রতিবেশী হান্নান শরীফের স্ত্রী পপি আক্তার গত কয়েকদিন ধরে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সরকারি এই পাকা রাস্তাটির প্রায় ২ ফিট জায়গা বেআইনিভাবে কেটে জবরদখল করে ব্যক্তিগত বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি রাস্তাটি অবৈধভাবে দখল করে দেয়াল নির্মাণ করায় রাস্তাটি অত্যন্ত সরু হয়ে গেছে। ফলে ওই রাস্তায় চলাচলকারী বড় ও মাঝারি যানবাহন এবং পথচারীরা সোনিয়া বেগমের বসতঘরের গা ঘেঁষে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে সোনিয়া বেগমের পরিবারের স্বাভাবিক চলাফেরা যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি যেকোনো মুহূর্তে দ্রুতগামী কোনো গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি বসতঘরে ঢুকে পড়ার বা দেয়াল ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
একজন অসহায় নারী এবং প্রবাসীর স্ত্রী হিসেবে সোনিয়া বেগম বসে থাকেননি। তিনি গত ১১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক (উঈ), রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টঘঙ এবং এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। এমনকি প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে ব্যক্তিগত ভাবেও ধরনা দিয়েছেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আজ পর্যন্ত কোনো দপ্তর থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সোনিয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,আমার স্বামী বিদেশে কষ্ট করে টাকা পাঠান, আমরা একটু শান্তিতে থাকতে চাই। কিন্তু এলাকার প্রভাবশালীরা আমাদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে সরকারি রাস্তাও কেটে খাচ্ছে। আমি ডিসি স্যার, ইউএনও স্যারের কাছে আবেদন করেছি, কিন্তু কেউ কাজ বন্ধ করতে আসেনি। আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

সরকার যেখানে বাসীদের “রেমিট্যান্স যোদ্ধা” হিসেবে বীরের মর্যাদা দেয়, সেখানে একজন প্রবাসীর স্ত্রীর সরকারি সম্পদ রক্ষার আবেদন কেন দীর্ঘ সময় হিমাগারে পড়ে থাকে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন সমাজ। সরকারি এলজিইডি রাস্তা কেটে ব্যক্তিস্বার্থে দেয়াল নির্মাণ একটি দন্ডনীয় অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও প্রভাবশালী হান্নান শরীফ ও পপি আক্তারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া প্রশাসনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

দেশের ১৬ কোটি মানুষ যখন কর্মব্যস্ততায় মগ্ন, তখন সোনিয়ার মতো কিছু মানুষ প্রভাবশালীদের লেবাসধারী শয়তানির শিকার হচ্ছে। প্রশাসন কি সোনিয়ার পরিবারে প্রাণহানির মতো বড় কোনো দুর্ঘটনার জন্য অপেক্ষা করছে? নাকি একজন প্রবাসীর স্ত্রীর আকুতি শুনে দ্রুত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ দেয়াল উচ্ছেদ করে সরকারি রাস্তাটি দখলমুক্ত করবে? প্রবাসীদের পরিবার যদি নিজ দেশেই নিরাপদ না থাকে, তবে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা কোন আশায় দেশের জন্য ঘাম ঝরাবেন এটাই এখন বড় প্রশ্ন।

শেয়ার করুন