নারায়ণগঞ্জে ভোজ্যতেলে পরিমাপে কারচুপি, ৩ প্রতিষ্ঠানকে ৭ লাখ টাকা জরিমানা

1 মিনিটে পড়ুন

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লায় ভোজ্যতেলে পরিমাপে কারচুপি, বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া পণ্য উৎপাদন ও বিক্রিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৭ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

বুধবার (১২ আগস্ট) বিএসটিআই আঞ্চলিক কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জের উদ্যোগে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে এ জরিমানা করা হয়।

অভিযানে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকার ইসমাইল ফুড প্রোডাক্টস-কে ৩ লাখ টাকা, একই এলাকার সালেহা ট্রেডিং-কে ৩ লাখ টাকা এবং ফতুল্লার কড়ইতলা, ভূইগড় এলাকার পিকো আইসক্রিম ফ্যাক্টরি-কে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

বিএসটিআই সূত্রে জানা যায়, ইসমাইল ফুড প্রোডাক্টসের বিরুদ্ধে ফর্টিফায়েড সয়াবিন তেলের পরিমাপে কারচুপির অভিযোগ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটি প্রতি ২ লিটারের পণ্যে ১০০ মিলিলিটার এবং প্রতি ১ লিটারে ৫০ মিলিলিটার কম তেল সরবরাহ করছিল। এছাড়া বিএসটিআইয়ের গুণগত মান সনদ ছাড়া ‘রূপসাগর’ ব্র্যান্ডের তেল বাজারজাত, অনুমোদনবিহীন বিভিন্ন আকারের বোতলে পণ্য মোড়কজাত, তেলে নির্ধারিত মাত্রায় ভিটামিন ‘এ’ না দেওয়া এবং পণ্যের লেবেলে অনুমোদন ছাড়া বিএসটিআই স্ট্যান্ডার্ড চিহ্ন ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়।

এছাড়া মোড়কজাতকরণ নিবন্ধন সনদ ছাড়াই পণ্য উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণ এবং ২ লিটারের কার্টনে ১ হাজার ৮০০ মিলিলিটার ধারণক্ষমতার বোতল বাজারজাতের অভিযোগও পাওয়া যায়। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে বিএসটিআই আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ১ লাখ টাকা এবং ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অন্যদিকে, সালেহা ট্রেডিংয়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মশার কয়েল বিএসটিআইয়ের গুণগত মান সনদ ও মোড়কজাতকরণ নিবন্ধন সনদ ছাড়াই উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণের প্রমাণ পাওয়া যায়। ‘ম্যাগনেট’, ‘পাগলা’, ‘বিচ্ছু’, ‘মাস’, ‘ফাইটার’, ‘ফর্মূলা’, ‘বসুন্ধরা’সহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মশার কয়েলের লেবেলে অনুমোদন ছাড়া বিএসটিআই স্ট্যান্ডার্ড চিহ্ন ব্যবহারের পাশাপাশি পণ্যের মান ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনিয়মও ধরা পড়ে।

এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈধ চুক্তি ছাড়া ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে বিএসটিআই আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ২ লাখ টাকা এবং ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮ অনুযায়ী ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

ফতুল্লার পিকো আইসক্রিম ফ্যাক্টরিতে বিএসটিআইয়ের গুণগত মান সনদ ও মোড়কজাতকরণ নিবন্ধন সনদ ছাড়া আইসক্রিম উৎপাদন ও বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়। কারখানাটি অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এবং পরিত্যক্ত ডোবার পাশে পরিচালিত হচ্ছিল। একই সঙ্গে মিথ্যা ঠিকানা ব্যবহার করে আইসক্রিম, আইসললি ও বিভিন্ন শিশু খাদ্য উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণের অভিযোগও পাওয়া যায়। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান শেষে তিন প্রতিষ্ঠানকেই মোড়কজাতকরণ নিবন্ধন সনদ ও সিএম লাইসেন্স গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন বিএসটিআই প্রধান কার্যালয়, ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাবেকুন নাহার। অভিযানে সহযোগিতা করেন বিএসটিআই আঞ্চলিক কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জের উপপরিচালক (সিএম) ও অফিস প্রধান কে. এম. হানিফ।

প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ফিল্ড অফিসার (সিএম) মাকসুদা রুনা, মো. রেজানুর রহমান সরকার, মো. রাশেদ আল মামুন এবং পরিদর্শক (মেট্রোলজি) মো. হাফিজুর রহমান।

বিএসটিআই জানিয়েছে, জনস্বার্থে ভেজাল, অননুমোদিত ও নিম্নমানের পণ্য প্রতিরোধে এ ধরনের মোবাইল কোর্ট ও বাজার তদারকি কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

শেয়ার করুন