এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় বিপর্যয় মনোহরদী সরকারি কলেজ পরিক্ষার্থী ৬১১ পাশ করেছে ১৫৪.

১ মিনিটে পড়ুন

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে একদিকে যেমন কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে, অন্যদিকে বেশ কয়েকটি কলেজের ফলাফলে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা। বিশেষ করে মনোহরদী সরকারি কলেজের ফলাফল উপজেলাজুড়ে শিক্ষার মান ও পাঠদান কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।


প্রাপ্ত ফলাফল শিট পর্যালোচনায় দেখা যায়, উপজেলার আটটি কলেজ থেকে মোট ১ হাজার ৭৫২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে পাস করেছে ৮৭৩ জন এবং ফেল করেছে ৮৭৯ জন। সামগ্রিক পাসের হার মাত্র ৪৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ।


এবারের ফলাফলে সবচেয়ে উজ্জ্বল সাফল্য দেখিয়েছে পাঁচকান্দি কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির ২০২ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে। পাসের হার শতভাগ। পাশাপাশি ২৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, যা উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে সরদার আহমত আলী মহিলা কলেজও প্রশংসনীয় ফলাফল অর্জন করেছে। ২০৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২০০ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ জন।


তবে সবচেয়ে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে মনোহরদী সরকারি কলেজে। উপজেলার অন্যতম বৃহৎ এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৬১১ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করলেও পাস করেছে মাত্র ১৫৪ জন। ফেল করেছে ৪৫৭ জন। পাসের হার মাত্র ২৫ দশমিক ২০ শতাংশ। আশ্চর্যের বিষয়, প্রতিষ্ঠানটি থেকে এবার কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করতে পারেনি।
এদিকে খিদিরপুর কলেজের ফলাফলও প্রত্যাশার তুলনায় হতাশাজনক। ২৫০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৯৮ জন এবং ফেল করেছে ১৫২ জন। পাসের হার ৩৯ দশমিক ২০ শতাংশ। কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি। প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের পরিচিতি ও শিক্ষার মান নিয়ে স্থানীয়দের প্রত্যাশার সঙ্গে এবারের ফলাফল বড় ধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি করেছে।


এ ছাড়া বড়চাপা ইউনিয়ন আদর্শ কলেজে পাসের হার ২৭ দশমিক ৪২ শতাংশ, বড়চাপা কলেজে ৫১ দশমিক ৯২ শতাংশ, হাতিরদিয়া রাজিউদ্দিন কলেজে ৪৮ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং আফাজ উদ্দিন খান কলেজে ৫৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ।
সার্বিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাঁচকান্দি কলেজ ও সরদার আহমত আলী মহিলা কলেজের সাফল্য যেমন প্রশংসার দাবি রাখে, তেমনি মনোহরদী সরকারি কলেজ ও খিদিরপুর কলেজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।


বিশেষ করে মনোহরদী সরকারি কলেজে ৬১১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৫৭ জনের অকৃতকার্য হওয়া শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিপর্যয় নয়; এটি উপজেলার সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েও ভাবনার অবকাশ তৈরি করেছে।
শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা, শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি, পাঠদানের মান, অভিভাবকদের সচেতনতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনা—সব বিষয়ই গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।


শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে এখন প্রশ্ন, যেসব কলেজ ভালো ফলাফল করেছে তাদের সাফল্যের কারণ কী এবং যেসব কলেজে ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে, সেখানে সমস্যার মূল কারণ কোথায়? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত বিষয়গুলো অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া। কারণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম বা অবকাঠামো নয়, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সাফল্যই হওয়া উচিত একটি কলেজের মানদণ্ড।

শেয়ার :
শেয়ার করুন