১ মিনিটে পড়ুন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের শ্রীঘর-বগাহানি গ্রামে স্বজন হারানোর বেদনা আর অভাবের কষ্টে দিন কাটানো একটি অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন ডেভেলপমেন্ট ফোরাম। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে এবং নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখাতে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি সেলাই মেশিন।
সময় উপস্থিত ছিলেন ড. মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন, বিদ্রোহী কাওসার আলম, মো. ইমন, মো. জসিম উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ফোরামের সদস্যরা।
জানা যায়, সহায়তা পাওয়া পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে অবস্থানকালে মৃত্যুবরণ করেন। প্রিয় মানুষটিকে হারিয়ে পরিবারটি শুধু একজন স্বজনকেই হারায়নি, হারিয়েছে সংসারের একমাত্র আয়ের অবলম্বনও। এরপর থেকেই নেমে আসে আর্থিক সংকট। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর অভাবের বোঝা নিয়ে পরিবারটির দিন কাটছিল চরম কষ্টে।
এমন পরিস্থিতিতে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয় শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন ডেভেলপমেন্ট ফোরাম। তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তার পরিবর্তে পরিবারের সদস্যদের আয় করার সুযোগ সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে প্রদান করা হয় সেলাই মেশিনটি।
একটি সেলাই মেশিন হয়তো বড় কোনো সম্পদ নয়, কিন্তু এই পরিবারের কাছে এটি নতুন আশার আলো। শোক আর সংকটের অন্ধকার পেরিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর একটি সম্ভাবনা। এই ছোট্ট উদ্যোগই হয়তো পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেবে সম্মানের সঙ্গে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ।
শ্যামগ্ৰাম মোহিনী কিশোর স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি ডক্টর মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বলেন “একটি পরিবার যখন তার একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারায়, তখন সেই পরিবারের কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আজ আমরা যে পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছি, তাদের হাতে শুধু একটি সেলাই মেশিন তুলে দিইনি, বরং স্বাবলম্বী হওয়ার একটি সুযোগ ও নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন তুলে দিয়েছি।
আমরা বিশ্বাস করি, অসহায় মানুষকে সাময়িক সহযোগিতার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া সবচেয়ে কার্যকর মানবিক উদ্যোগ। এই সেলাই মেশিনের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা নিজেদের আয়ের পথ তৈরি করতে পারবেন এবং ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন ডেভেলপমেন্ট ফোরাম মানুষের কল্যাণে যে মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষদের প্রতি আহ্বান জানাই, আপনারাও অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ান। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি পরিবার স্বাবলম্বী হলে, সেটিই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।
ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতেও শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন ডেভেলপমেন্ট ফোরামের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। আমরা চাই, সমাজের প্রতিটি অসহায় পরিবার নতুন আশায় ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাক।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি সামাজিক দায়বদ্ধতাও। কাউকে সাময়িক আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে পারলে একটি পরিবার দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে। সেলাই মেশিন প্রদানের এ উদ্যোগ তারই একটি বাস্তব উদাহরণ।
শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন ডেভেলপমেন্ট ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তাদের স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করতে সকলের দোয়া, সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেছে সংগঠনটি।
স্থানীয়রা ফোরামের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষগুলো যদি এভাবে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ান, তাহলে অনেক পরিবার নতুন করে বাঁচার সাহস পাবে। একটি পরিবারের চোখের জল মুছে দিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ দেখানোই হতে পারে মানবিক সমাজ গড়ার সবচেয়ে সুন্দর দৃষ্টান্ত। মানবিকতার এই ছোট্ট উদ্যোগে হয়তো বদলে যাবে একটি পরিবারের আগামী দিনের গল্প।









