কেশবপুরে গত ১০ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২৩১,হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১০

১ মিনিটে পড়ুন

যশোরের কেশবপুরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ২৩১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চলতি মাসে ৫২ জন এবং গত এক সপ্তাহে ১৮ জন শনাক্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন দুজন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১০ জন। এদিকে পৌরসভার বায়সা এলাকায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত কেশবপুর উপজেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩১ জনে। সাম্প্রতিক সময়ে নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতা ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেহেনেওয়াজ বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যপরামর্শ প্রদান এবং রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ডেঙ্গুর লক্ষণ, প্রতিরোধের উপায় ও সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে বাড়িঘর, আঙিনা ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি। ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত পাত্র ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে। শুধু স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।


জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গু সন্দেহ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত বা অতিরিক্ত দুর্বলতার মতো বিপৎসংকেত দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। সবার সম্মিলিত সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব।


কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্কাউট সদস্য ও পৌরসভার কর্মকর্তাদের নিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং হাটবাজারের ড্রেন ও নালা পরিষ্কারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া পৌরসভার পক্ষ থেকে মশা নিধনে স্প্রে করা হচ্ছে। সরকারি নিদের্শনা অনুযায়ী নিয়মিত সচেতনতা করা অব্যহত রয়েছে।

শেয়ার :
শেয়ার করুন