1 মিনিটে পড়ুন
দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন এবং উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর উদ্যোগে সাক্ষরতা দিবসের র্যালী ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। “মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা” (Literacy for people, the planet and prosperity)এই প্রতিপাদ্য কে সামনে রেখে ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং তারিখ সকালে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চত্বর থেকে থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষক, ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাক্ষরতার গুরুত্ব নিয়ে বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত আলোচনা সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ.কে.এম হেদায়াতুল ইসলামের সঞ্চালনায় উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. মোঃ মনিরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল আলম সাজা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লক্ষণ কুমার দাস, গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক, গাইবান্ধা জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এস. এম আরশাদ।
এছাড়া ছিন্নমূল মহিলা সমিতির কমী্ বৃন্দ ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষক, ও শিক্ষার্থীরা অংশ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন টেকসই বাংলাদেশ গঠনে জেলা থেকে শতভাগ নিরক্ষরতা দূরীকরণ ও প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষকে শিক্ষার আওতায় আনার উপর জোর দিতে হবে। গাইবান্ধা জেলার এখনো ৩৩ শতাংশ মানুষ সাক্ষরতার বাহিরে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষকে সাক্ষরতার বাহিরে রেখে কখনো একটি জেলার উন্নয়ন করা সম্ভব না। তাই আগামীতে বিভিন্ন প্রোগ্রামে ও সেমিনারের মাধ্যমে এই ৩৩% মানুষকে কিভাবে নিরক্ষর মুক্ত করা যায় সে ব্যাপারে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে চরের শিক্ষা ব্যবস্থার উপর জোর দিতে হবে। তাহলে সাক্ষরতার যে কাঙ্ক্ষিত সফলতা সেই সুফল মিলবে গাইবান্ধা জেলায়।
উল্লেখ্য যে,সাক্ষরতা বলতে ঐতিহ্যগতভাবে কোনো একটি ভাষায় পড়তে, লিখতে ও বুঝতে পারার দক্ষতাকে বোঝায়। সাক্ষরতার সংজ্ঞা সহজ কথায়, অন্তত একটি ভাষায় লেখা চেনা, পড়া ও লেখার ক্ষমতাই হলো সাক্ষরতা। তবে আধুনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ধারণায় সাক্ষরতার সংজ্ঞা আরও ব্যাপক। বর্তমান সরকারি ও আন্তর্জাতিক (যেমন ইউনেস্কো) নীতি অনুযায়ী, সাক্ষরতা কেবল নাম সই করা বা কেবল অক্ষরজ্ঞান নয়; এটি হলো— কোনো ছোট লেখা বা বাক্য পড়ে তার অর্থ অনুধাবন করা বা বোঝা।মৌখিক ও লিখিতভাবে নিজের ভাব প্রকাশ বা যোগাযোগ স্থাপন করা।দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনে যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগের মতো মৌলিক গাণিতিক নিয়মগুলো ব্যবহার করতে পারা (যেমন বাজারের হিসাব মেলানো)। সাক্ষরতার মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ পড়া ও লেখার ক্ষমতা: নিজের মাতৃভাষা বা যেকোনো একটি ভাষায় সাবলীলভাবে পড়তে ও লিখতে পারা।যোগাযোগ ও অনুধাবন: তথ্য আদান-প্রদান করতে পারা এবং পারিপার্শ্বিক লিখিত বিষয়গুলো অনুধাবন করতে পারা। প্রায়োগিক দক্ষতায় অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে কাজে লাগানোর নামেই হচ্ছে প্রকৃত স্বাক্ষরতা।





