শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজে এসএসসি ২০২৬-এর কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

1 মিনিটে পড়ুন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজে এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ও কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান এবং অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের নতুন করে স্বপ্ন দেখাতে অনুপ্রেরণামূলক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৮ আগস্ট ২০২৬, শুক্রবার সকালে বিদ্যালয়ের কনফারেন্স রুমে শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন ডেভেলপমেন্ট ফোরামের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ও কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবনে সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে অতিথিরা মূল্যবান দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।
তবে এই অনুষ্ঠানের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য  দিক ছিল—শুধু কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা নয়, বরং এসএসসি পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদেরও নতুন করে সাহস ও স্বপ্ন দেখানো। বক্তারা বলেন, জীবনের একটি পরীক্ষায় ব্যর্থতা কখনোই জীবনের শেষ নয়। ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে গেলে ভবিষ্যতে সফলতার দরজা অবশ্যই খুলে যাবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, একটি ফলাফল একজন মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না; বরং অধ্যবসায়, সততা, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসই একজন মানুষকে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়। তাই যারা এবার কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পারেনি, তাদের হতাশ না হয়ে নতুন করে প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এসএসসি ২০২৬ সালের কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি ডক্টর মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং প্রতিষ্ঠানের প্রভাষক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শামসুজ্জামান খান মাসুম, শ্যামগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ রুস্তম আহমেদ,
শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মোস্তাক আহমেদ, প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক প্রতিনিধি মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম মামুন, শিক্ষক প্রতিনিধি সৈয়দা সুলতানা নুরুন্নাহার, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আজিজউল্লাহ,  সহকারী আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ বাবুল মিয়া, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সাকিল আহমেদ, শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর স্কুল এন্ড কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক ও কলেজ শাখার ইনচার্জ জনাব আবরার কবির, ইউনিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালক সবুজ মাহমুদ, বানিয়াচং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মীর আলী আহমেদ মনির, তরুণ সমাজ সেবক বায়জিদ আহমেদ জাহিদ, এবং মোহাম্মদ লিটন খন্দকার।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাজী ইব্রাহীম, মোঃ ফারুক মিয়া এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম সবুজসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সভাপতির বক্তব্যে ডক্টর মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে প্রতিবছর এ ধরনের কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন,
“উপহার ছোট হোক কিংবা বড় হোক, একজন শিক্ষার্থীর ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি তাকে ভবিষ্যতে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা দেয়। আর যারা এবার ভালো ফল করতে পারেনি, তাদেরও আমাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। কারণ একটু উৎসাহ, একটি ভালো কথা কিংবা সামান্য সহযোগিতাও একজন শিক্ষার্থীর জীবন পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করলেই হবে না, তাদেরকে নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমাজ ও দেশের নেতৃত্ব দেবে।
অনুষ্ঠানটি ছিল শুধু কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা দেওয়ার একটি আয়োজন নয়; বরং এটি ছিল স্বপ্ন দেখার, ব্যর্থতাকে জয় করার এবং নতুন প্রত্যয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার এক অনুপ্রেরণামূলক মিলনমেলা।
অনুষ্ঠান শেষে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ও উপহার তুলে দেওয়া হয়। সম্মাননা পেয়ে শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ছিল আনন্দের ঝলক, আর অভিভাবকদের মাঝে ছিল গর্ব ও আবেগের ছাপ।
শিক্ষার আলোয় আলোকিত আগামী প্রজন্ম গড়তে এবং কোনো শিক্ষার্থী যেন ব্যর্থতার কারণে পথ হারিয়ে না ফেলে—এমন প্রত্যয় ও আশাবাদ নিয়েই শেষ হয় এসএসসি ২০২৬ সালের কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও অনুপ্রেরণামূলক অনুষ্ঠান।

শেয়ার করুন