1 মিনিটে পড়ুন
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষে নরসিংদীতে জশনে জুলুস, আলোচনা সভা, মিলাদ ও মুনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে নরসিংদী সদর উপজেলার চরহাজীপুরের খাসেরচর হাফেজ নগর দায়রা শরীফ থেকে জশনে জুলুসটি বের হয়। পরে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নরসিংদী সদরে গিয়ে আলোচনা, মিলাদ ও মুনাজাতের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
জশনে জুলুসে উপস্থিত ছিলেন ঐতিহ্যবাহী চন্দনাইশ সাতবাড়ীয়া হাফেজ নগর দরবার শরীফের পীর-এ-তরিকত হযরত মুফতি সৈয়দ আশেকুর রহমান হাফেজনগরী মাইজভান্ডারী (মা.জি.আ.)। এ সময় তিনি মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে শুকরিয়া আদায় এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর দরবারে দরুদ ও সালাম পেশ করেন।
আলোচনায় মুফতি সৈয়দ আশেকুর রহমান হাফেজনগরী বলেন, “আমি আমার প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-কে নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। আমি সুন্নি, হানাফি, মাইজভান্ডারী, হাফেজনগরী ও বংশগত সৈয়দ পরিবারের একজন। যুগের পর যুগ বংশীয় ধারাবাহিকতায় আমাদের পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া ঈমানি, রূহানি ও আনন্দময় ঐতিহ্যকে পরিপূর্ণ মুহাব্বতের সঙ্গে হৃদয়ে ধারণ করে জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উদযাপন করে যাব—ইনশাআল্লাহ।”
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শুভ আগমনের স্মরণে আনন্দ প্রকাশকে তিনি পার্থিব উৎসব হিসেবে দেখেন না; বরং এটিকে মহানবী ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসা, শুকরিয়া ও মহব্বতের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখেন। তাঁর ভাষায়, “নবীপ্রেম কেবল কিতাবের পৃষ্ঠায় সীমাবদ্ধ নয়; তা হৃদয়ের আলো, আত্মার তৃষ্ণা, চরিত্র ও আমলের সৌন্দর্যে প্রকাশিত হয়।”
মুফতি সৈয়দ আশেকুর রহমান বলেন, যারা ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উদযাপনের বিরোধিতা করেন, তাদের সঙ্গে বিরোধ বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করা তাঁর উদ্দেশ্য নয়। বরং তিনি হিদায়াতের জন্য দোয়া করেন। তবে ইসলামের নামে বিভেদ, বিদ্বেষ কিংবা দ্বীনের বিষয়কে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহারের প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সত্য ও মহব্বতের পথের সঙ্গে এর কোনো আপস হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, তাঁর পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং আশেকান-মুরিদীন—শিশু থেকে শুরু করে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ পর্যন্ত—নিজ নিজ সামর্থ্য ও অবস্থান থেকে রাসূল ﷺ-এর মহব্বতকে হৃদয়ে ধারণ করেন। এই মহব্বতকে তিনি মানুষের চরিত্র, বিনয়, আদব ও আমলের মাধ্যমে প্রকাশ করার আহ্বান জানান।
নিজেকে মহানবী ﷺ-এর পবিত্র বংশধারার একজন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই পরিচয় তাঁর কাছে গর্বের পাশাপাশি বড় দায়িত্বও। আখলাক, বিনয়, আদব এবং রাসূল ﷺ-এর সুন্নাহর প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে সেই দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করতে হবে।
মুফতি সৈয়দ আশেকুর রহমান বলেন, “বাতিল ও মিথ্যার সঙ্গে সত্যের আপস আমার দ্বারা কখনো সম্ভব নয়। তবে আমার সংগ্রামের পথ হবে ইলম, আদব, দলিল, সবর ও উত্তম চরিত্রের পথ। ঘৃণার জবাব ঘৃণায় নয়—ইশকে রাসূল ﷺ-এর নূর দিয়ে দেব।”
তিনি বলেন, যতদিন তিনি জীবিত থাকবেন এবং গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী ও হাফেজ নগর দরবার শরীফের আউলিয়াদের দয়া তাঁর ওপর থাকবে, ততদিন ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ-এর মহব্বতের এই ধারা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবেন। পাশাপাশি মতভেদ ও বিরোধের ক্ষেত্রে ইসলামের আদব, শিষ্টাচার, জ্ঞান, যুক্তি ও উত্তম চরিত্র বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আলোচনা শেষে মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করা হয়। পরে দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সবার কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করা হয়।





