এনআইএলজিতে আওয়ামী লীগপন্থি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

1 মিনিটে পড়ুন

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউট (এনআইএলজি)-এর কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি, নারী সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার, ক্রয়-বাণিজ্যে কমিশন গ্রহণ, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অনিয়মসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পরও পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত এসব কর্মকর্তা এখনও গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন। ফলে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কাঙ্ক্ষিত প্রশাসনিক সংস্কার বাস্তবায়িত হয়নি।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এনআইএলজি স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন একটি জাতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ প্রদানই প্রতিষ্ঠানটির মূল দায়িত্ব। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেও অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ও কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. কায়েমুজ্জামানের নাম। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং রাজনৈতিক প্রভাবের ধারাবাহিকতায় এনআইএলজিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন। তার বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, অশালীন ভাষা ব্যবহার, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, অধস্তন কর্মকর্তাদের অপমান, ব্যক্তিগত কাজে সরকারি জনবল ব্যবহার, প্রশিক্ষণার্থীদের খাবার ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে নিয়মবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত সম্মানী গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই একটি প্রকল্প থেকে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকার বেশি সম্মানী গ্রহণ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে অডিও-ভিজ্যুয়াল টেকনিশিয়ান মেজবাহ উদ্দিন খান ও প্রকল্প কর্মকর্তা এ জেহাদ সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মে সহযোগিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং পরিচালক (প্রশিক্ষণ)-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

গবেষণা বিভাগের পরিচালক মো. আরিফুর রহমান শেখের বিরুদ্ধেও গবেষণা নীতিমালা অনুসরণ না করা, গবেষণা বরাদ্দে অনিয়ম এবং বিধিবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি অতীতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেকের একান্ত সচিব ছিলেন।

পরিচালক (কর্মসূচি ও মূল্যায়ন) মো. রাজা মিয়ার বিরুদ্ধে মূল্যায়ন শাখাকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে ব্যর্থ হওয়া, দীর্ঘদিনেও পৃথক বাজেট ও আর্থিক কাঠামো গড়ে তুলতে না পারার অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রশাসন ও সমন্বয় বিভাগের ই-জিপি কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা স্টোর-কিপার নূর হোসেন আসরাফীর বিরুদ্ধে সরকারি ক্রয়ে কমিশন বাণিজ্য, একই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দীর্ঘদিন সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালনা এবং সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর তার সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটেছে।

যুগ্মপরিচালক (গবেষণা) পদে দায়িত্ব পালনকারী এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গবেষণা প্রকল্পে নীতিবহির্ভূতভাবে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ, ব্যক্তিগত কাজে অফিস সহকারী ব্যবহার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া যুগ্মপরিচালক (প্রশাসন) এস এম ইমরুল কায়েসের বিরুদ্ধে অফিসের মাইক্রোবাস ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার, অফিস সহকারীকে ব্যক্তিগত কাজে নিয়োজিত রাখা এবং অফিসে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, যুগ্মপরিচালক (প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ) মোহাম্মদ জাহিদ আখতার, অডিও-ভিজ্যুয়াল কর্মকর্তা এরশাদ-ই-ইসলাম এবং অফিস সহায়ক মাহফুজ গাজীর বিরুদ্ধেও বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে একটি পারিবারিক সঞ্চয় সমিতির নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের বিষয়টিও তদন্তের দাবি জানিয়েছে অভিযোগকারীরা।

অভিযোগকারীদের দাবি, এনআইএলজির মতো একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষ প্রশাসন নিশ্চিত করতে অবিলম্বে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তার বক্তব্য গ্রহণ করে তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

(চলবে… পরবর্তী পর্বে প্রত্যেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পৃথকভাবে উপস্থাপন করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য প্রকাশ করা হবে।)

শেয়ার করুন