১ মিনিটে পড়ুন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২৯টি ওয়ার্ডকে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্বের ভিত্তিতে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৮টি ওয়ার্ড মাঝারি এবং ১৮টি ওয়ার্ড সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ। ডিএসসিসির বর্ষাকালীন এডিস মশার লার্ভা জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জরিপে দেখা গেছে, বাসাবাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি এবং বিভিন্ন পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে প্রাথমিক পর্যায়েই ৫০ দশমিক ৯ শতাংশ এডিস মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব। এ জন্য নাগরিকদের সচেতনতা ও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংস্থাটি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) নগর ভবন অডিটোরিয়ামে ‘বর্ষাকালীন এডিস মশার লার্ভা জরিপ ২০২৬’-এর ফলাফল প্রকাশ ও পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
সংস্থাটি জানায়, ডিএসসিসি এলাকায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বিস্তার রোধে গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ১২ দিনব্যাপী এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। দৈবচয়ন ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সিটি করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটি থেকে ৩০টি করে মোট ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি নমুনা হিসেবে নির্বাচন করা হয়। জরিপে ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার ৩৬ জন মাঠকর্মী অংশ নেন।
জরিপের তথ্য সংগ্রহে ‘কবো টুলবক্স’ ব্যবহার করা হয়। পরে ব্রেটো ইনডেক্স, হাউস ইনডেক্স, কন্টেইনার ইনডেক্স ও পিউপা ইনডেক্সের মাধ্যমে তথ্য বিশ্লেষণ করে ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বা হটস্পট চিহ্নিত করা হয়।
অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ২৯টি ওয়ার্ড হলো ১, ২, ৯, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ৩১, ৫৩, ৫৪, ৫৫, ৫৬, ৫৮, ৫৯, ৬০, ৬১, ৬২, ৬৫ ও ৭১ নম্বর ওয়ার্ড।
মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ২৮টি ওয়ার্ড হলো ৪, ৫, ৬, ৮, ১০, ১৮, ২৩, ২৯, ৩০, ৩২, ৩৩, ৩৫, ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪৩, ৪৬, ৫১, ৫২, ৫৭, ৬৪, ৬৭, ৬৮, ৬৯, ৭৩ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড। সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮টি ওয়ার্ড হলো ৩, ৭, ১৭, ২৮, ৩৪, ৪১, ৪২, ৪৪, ৪৫, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫০, ৬৩, ৬৬, ৭০, ৭২ ও ৭৪ নম্বর ওয়ার্ড।
জরিপে পরিদর্শন করা ২ হাজার ২৫০টি বাড়ির মধ্যে ৩২২টিতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপা পাওয়া গেছে। বাড়ির ধরন অনুযায়ী বহুতল ভবনের ৩১ দশমিক ০৬ শতাংশ, স্বতন্ত্র বাড়ির ৩১ দশমিক ৩৭ শতাংশ, সেমিপাকা বাড়ির ১৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ, খালি প্লটের ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং নির্মাণাধীন বাড়ির ১৩ দশমিক ০৪ শতাংশে লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যায়।
জরিপে আরও দেখা গেছে, লার্ভা পাওয়া যাওয়ার ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের বালতির হার ১৪ দশমিক ২১ শতাংশ, প্লাস্টিকের ড্রামের ১১ দশমিক ২২ শতাংশ, বেইজমেন্টে জমে থাকা পানির ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ, প্লাস্টিকের মগের ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং ফুলের টবের ৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এসব পাত্র ও স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করা গেলে এডিস মশার বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করছে ডিএসসিসি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এ জন্য নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। বাসাবাড়ি ও কর্মস্থলের আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং সপ্তাহে অন্তত এক দিন জমে থাকা পানি অপসারণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমের মাধ্যমে সঠিক তথ্য ও সচেতনতামূলক বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে সংবাদকর্মীদের সহযোগিতা প্রয়োজন। নাগরিক সচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গুমুক্ত, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর ঢাকা গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রশাসক আরও জানান, জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ মশক নিধন অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি শনিবার ডিএসসিসির নিয়মিত ‘ক্লিনিং ডে’ কর্মসূচির আওতায় শিশুদের ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষায় সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙিনা ও টয়লেট পরিষ্কারের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, সচিব মো. মশিউর রহমান খান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ বিভাগীয় ও আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এজেএ






