১ মিনিটে পড়ুন
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও দ্য ডেইলি অবজারভার-এর সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের কার্যালয় থেকে তাকে আটক করা হয়।
তবে কী কারণে তাকে আটক করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে কোন মামলায় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কিংবা আটকের পর কোথায় নেওয়া হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে আটকের সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনো মামলা বা অভিযোগের সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইকবাল সোবহান চৌধুরী দেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের একজন। ১৯৭২ সালে দ্য বাংলাদেশ অবজারভার পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে তার সাংবাদিকতা শুরু হয়। পরে তিনি পত্রিকাটির সম্পাদক হন এবং পত্রিকাটি বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত এ দায়িত্বে ছিলেন।
তিনি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) একটি অংশের সভাপতি এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তী সময়ে দ্য ডেইলি অবজারভার-এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেন। গণমাধ্যমের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও গণমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ইকবাল সোবহান চৌধুরী। ২০১৩ সালে তাকে শেখ হাসিনার তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর তাকে প্রধানমন্ত্রীর সম্মানী ও খণ্ডকালীন গণমাধ্যম উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী সদর আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তিনি জয়ী হতে পারেননি।
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তেও একবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। মামলাটির তদন্তে গঠিত টাস্কফোর্স পিবিআই কার্যালয়ে ডেকে তার বক্তব্য নেয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে তার বক্তব্য রেকর্ড করা হয়।
সে সময় টাস্কফোর্সের প্রধান ও পিবিআইপ্রধান মোস্তফা কামাল জানিয়েছিলেন, সাংবাদিক দম্পতি হত্যাকাণ্ডের পর ইকবাল সোবহান চৌধুরী বিভিন্ন সময়ে যেসব বক্তব্য দিয়েছিলেন, সেসব বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছে। তবে ওই জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে বর্তমান আটকের কোনো সম্পর্ক রয়েছে, এমন তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
জেএএ






