১ মিনিটে পড়ুন
সোহেলী জামান,
রাজধানীর নিউমার্কেট থানাধীন গাউসুল আজম সুপার মার্কেটের দোকান মালিক ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি মোতালেব মিয়ার বিরুদ্ধে প্রায় ১৪২ কোটি টাকা আত্মসাৎ, দোকান বরাদ্দ ও পজিশন হস্তান্তরে অনিয়মসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সমবায় অধিদপ্তরের নির্দেশনায় ঢাকা জেলা সমবায় কার্যালয়ের দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগকারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জালাল আহমেদ জসিমের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মার্কেটের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল অর্থের হিসাব দেওয়া হয়নি। তবে অভিযোগগুলো সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত চলছে।
সূত্র জানায়, নিউ মার্কেট থানাধীন গাউসুল আজম সুপার মার্কেট এর দোকান মালিক ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি লি.- এর সাধারণ সম্পাদক জালাল আহম্মেদ জসিম সমবায় অধিদপ্তরের ডিজি বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, মার্কেটের অবৈধ দখলদার মোতালেব মিয়া ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হয়ে দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে অবৈধভাবে গাউসুল আজম সুপার মার্কেটটি নিজ দখলে নিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আসছেন।
মার্কেট কমিটির হিসাব মতে বিগত দুই যুগে মোতালেব মিয়া প্রায় ১৪২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক মার্কেট কমিটির বৈধ সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এই বিপুল অর্থের আত্মসাৎকারী মোতালেব মিয়ার বিরুদ্ধে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সাধারণ সম্পাদকের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা জেলা সমবায় দুই সদস্য বিশিষ্ট সদস্যরা হলেন উপসহকারী নিবন্ধক মোহাম্মদ নাজমুল হুদা ঢাকা জেলা সমবায় কার্যালয়, পরিদর্শক তৌহিদুর রহমান ঢাকা জেলা সমবায় কার্যালয়, ঢাকা। ইতিমধ্যেই কমিটি তাদের তদন্ত কাজ শুরু করেছেন। তদন্ত কর্মকর্তা নাজমুল হুদা জানান, দুই সদস্যের কমিটি ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছেন। বাদীর অনুপস্থিতিতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে গিয়ে কমিটির অন্যান্য কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছেন। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তদন্ত কাজ শেষ করা হবে।
একটি সূত্র জানায়, মার্কেট সভাপতি মোতালেব মিয়া পুরো ১৪২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে নিজের পরিবারের সদস্যদের নামে গড়ে তুলেছেন একাধিক বাড়ি, গাড়ি, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মোতালেব মিয়ার কয়েক শত টাকা সম্পদ, চাঁদপুর নিজ জেলায় আলীশান বাড়ি, রয়েছে বিপুল পরিমাণ নাল জমি। ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর মোতালেব সরকারি খাস জমিতে অবৈধভাবে দোকান থেকে গড়ে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। মোতালেব মিয়া ও তার পরিবার, নিজের নামে কোন লিজ না থাকলেও সাড়ে ৮ শতক দোকান ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন যা সমিতির কোনো হিসেবে নেই। মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক জালাল আহমেদ জসিম জানান, ১.১৭ শতাংশ খাস জমির উপর নির্মিত ৩ তলা বিশিষ্ট মার্কেটের দোকানের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৮ শত। দোকান প্রতি মাসিক ভাড়া ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা।
সরকারি খাস জমিতে অবৈধভাবে নির্মাণ করা মার্কেট থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া মার্কেট সভাপতি মোতালেব মিয়া এখনও বহাল তবিয়তে থেকে অবৈধভাবে সভাপতির পদও দখল করে রেখেছেন। বর্তমান স্থানীয় বিএনপির কতিপয় নেতা-কর্মীদের আতাঁত করে এবং তাদেরকে মোটা অঙ্কের নিয়মিত চাঁদা দেয়ার কারণে বর্তমানে তাকে কোনো ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে না।
মার্কেট কমিটির সাধারণ সম্পাদক জালাল আহমেদ জসিম আরও জানান, বিগত ২ যুগ ধরে মোতালেব মিয়া সরকারের কাছ থেকে লিজ না নিয়েই খাস জমি দখল করে মার্কেট বানিয়েছে।
জালাল আহমেদ জসিমের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সভাপতি পদে থেকে মোতালেব মিয়া মার্কেটের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করেছেন এবং প্রায় ১৪২ কোটি টাকার হিসাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে দাবি তার। তবে ১৪২ কোটি টাকা আত্মসাৎ হয়েছে- এমন অভিযোগের সমিতির সাধারণ সম্পাদক জানান, ১৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ যদি সত্য না হয়ে থাকে, তাহলে বরাদ্দ হিসেবে পাওয়া ওই টাকার হিসাব এখন পর্যন্ত মোতালেব সাহেব কেন দেননি- জালাল আহমেদের অভিযোগ, তিনি টাকার হিসাব চাওয়ায় ভাড়াটিয়া গুন্ডাবাহিনী দিয়ে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
মোতালেব সিস্টেম করে তার ভাতিজা আলাউদ্দিনকে পাঠায়। আলাউদ্দিন আবার নানা অনিয়ম শুরু করে।” তার অভিযোগ, এ সময় হোল্ডিং ট্যাক্স, বিদ্যুৎ বিল, পজিশন হস্তান্তর দলিল ও ভুয়া সদস্য তৈরির মতো অনিয়ম করা হয়। এমনকি কামালকে ভুয়া সম্পাদক বানানোর অভিযোগও করেন তিনি। জসিমের ভাষ্য, এসব কর্মকান্ডে তিনি বাধা দেওয়ায় মোতালেব মিয়ার ভাতিজা বিষয়টি তাকে জানান এবং পরবর্তীতে তিনি মোতালেব মিয়ার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে মার্কেটের অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
জসিমের অভিযোগ, তার প্রতিবাদের পর মোতালেব মিয়া ও সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে তার ব্যবসা-বাণিজ্য ও দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। মোতালেব মিয়ার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অনিয়ম, অবৈধভাবে দলিল দেওয়া ও সমিতির সম্পদ সংক্রান্ত অভিযোগগুলো যথাযথভাবে তদন্তে আনা হয়নি।
এবিষয়ে মোতালেব মিয়ার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
জেএএ






