১ মিনিটে পড়ুন
বাংলাদেশে শিশু ও তরুণদের অনলাইন নির্যাতন, হয়রানি ও শোষণের মাত্রা, পরিসর ও প্রেক্ষাপট এবং এর ফলে তাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে—এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা পরিচালনায় ইনসিডিন বাংলাদেশ ও গ্লোবাল মাইন্ডলেন্সের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
গবেষণাটির বিষয় হলো—বাংলাদেশে শিশু ও তরুণদের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক জীবনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর অনলাইন নির্যাতন, হয়রানি ও শোষণের প্রভাব এবং এর মাত্রা, পরিসর ও প্রেক্ষাপট বিষয়ে লিঙ্গ ও বয়সভিত্তিক গবেষণা।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়িত ‘স্পিক আপ!’ প্রকল্পের আওতায় এ গবেষণা পরিচালিত হবে। প্রকল্পটির নেতৃত্ব দিচ্ছে টেরে দেস হোমস নেদারল্যান্ডস। সহযোগী সংস্থা হিসেবে রয়েছে ইনসিডিন বাংলাদেশ, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো ডিজিটাল পরিসরে শিশু ও তরুণদের নিরাপদ ও অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং অনলাইন নির্যাতন, হয়রানি ও শোষণ থেকে তাদের সুরক্ষা আরও কার্যকর করা।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে গ্লোবাল মাইন্ডলেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ফেরদৌস শাহরীন প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এবং ইনসিডিন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এ. কে. এম. মাসুদ আলী সংস্থার পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে ইনসিডিন বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মো. রফিকুল ইসলাম খান, লিগ্যাল অ্যান্ড পলিসি ফোকাল; মুশফিকুর রহমান, অ্যাডভোকেসি চিফ; মাহাবুব মির্জা, প্রোগ্রাম ম্যানেজার; পাওলা বিশ্বাস এবং শাহিদা পারভীন, ফাইন্যান্স অফিসার। গ্লোবাল মাইন্ডলেন্সের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মো. ইলিয়াস, পরিচালক—প্রোগ্রাম ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড পার্টনারশিপস এবং রাশেদুল আলম ভূইয়ান, হেড অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামাল পাশা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
গবেষণাটি ঢাকা, গাজীপুর, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলায় পরিচালিত হবে। এতে শহর, আধা-শহর, গ্রামীণ ও উপকূলীয় প্রেক্ষাপটকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। গবেষণায় অনলাইন নির্যাতন, হয়রানি ও শোষণের মাত্রা, ধরন ও প্রেক্ষাপট, শিশু ও তরুণদের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক জীবনে মতপ্রকাশ ও অংশগ্রহণের ওপর এর প্রভাব এবং বিদ্যমান আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক, অভিযোগ-প্রতিবেদন ও সুরক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন ঘাটতি বিশ্লেষণ করা হবে।
গবেষণার ফলাফল শিশু সুরক্ষা, ডিজিটাল নিরাপত্তা, নীতি ও আইন সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অধিকারভিত্তিক অ্যাডভোকেসি জোরদারে প্রমাণভিত্তিক দিকনির্দেশনা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশের শিশু ও তরুণদের জন্য আরও নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং মতপ্রকাশবান্ধব ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হবে।









