১ মিনিটে পড়ুন
বরিশালের উজিরপুরে সাংবাদিক আসাদুল হক গোমস্তার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে নাসির গোমস্তা, মৃদুল গোমস্তা ও বায়েজিদ গোমস্তার বিরুদ্ধে। গত ৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার দিকে গড়িয়া নতুনহাট বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন আসাদুল হক গোমস্তা। এ ঘটনায় আসাদুল গোমস্তা ও তার ভাতিজা আজিম গোমস্তা গুরুতর আহত হন। পরে আহত অবস্থায় তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার পর ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে উজিরপুর থানা থেকে এসআই জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশ অভিযান চালিয়ে বায়েজিদ গোমস্তার কাছ থেকে একটি চাইনিজ অস্ত্র উদ্ধার করে।
এদিকে ঘটনার রাতেই আসাদুল হক গোমস্তার স্ত্রী মরিয়ম বেগম উজিরপুর থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগে বলা হয়, গড়িয়া নতুনহাট বাইতুল আমান জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা মৃত আশরাফ আলী গোমস্তার ছেলে মো. আসাদুল গোমস্তা বর্তমান মসজিদ কমিটির একজন সদস্য। একই কমিটির সভাপতি হিসেবে রয়েছেন নজরুল গোমস্তা। মসজিদের অর্থের হিসাব নিয়ে কমিটির সদস্যদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আসাদুল গোমস্তাসহ মসজিদ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা নজরুল গোমস্তার কাছে হিসাব চাইলে বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি রাতে নাসির গোমস্তা, মৃদুল গোমস্তা ও বায়েজিদ গোমস্তাসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি আসাদুল গোমস্তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার বাড়িতে এসেছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে বাজারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে তারা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ওই ঘটনার পর আসাদুল গোমস্তা উজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রাকিবুল ইসলামকে ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে থানা থেকে একটি দল ঘটনাস্থলে যায় এবং সাক্ষীদের বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে চলে যায় বলে জানা গেছে। পরদিন আসাদুল গোমস্তা উজিরপুর থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগকারীর দাবি, ওই ঘটনার তদন্তের দায়িত্বে থাকা এসআই রফিকুল ইসলাম কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরে তিনি বরিশাল আদালতে ১০৭ ধারায় একটি মামলা করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় গড়িয়া নতুনহাট বাজারে আসাদুল গোমস্তার ওপর আবারও হামলার চেষ্টা করা হয়। তবে বাজারে লোকজন উপস্থিত থাকায় হামলাকারীরা সফল হতে পারেনি বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে নজরুল গোমস্তার করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে উজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জের নির্দেশে এসআই জাহাঙ্গীর একটি মামলা রুজু করেন বলে অভিযোগকারীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
তবে এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া কথিত চাইনিজ অস্ত্রটি নিয়ে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসআই জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থল থেকে বায়েজিদ গোমস্তার কাছ থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেলেও পরবর্তী মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে ওই অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।
এছাড়া অভিযোগকারীদের আরও দাবি, বায়েজিদ গোমস্তাকে নন-জিআর মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ফলে সাধারণ জনগণ ও মামলার সাক্ষীদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা কথিত চাইনিজ অস্ত্রটির পরবর্তী অবস্থান কী? অস্ত্রটি কি আদালতে জব্দ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, নাকি অন্য কোনোভাবে তা থানার হেফাজত থেকে বের হয়েছে—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করা হচ্ছে।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, বায়েজিদ গোমস্তার ফেসবুক আইডিতে চাইনিজ অস্ত্রের ছবি দিয়ে পোস্ট করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে অস্ত্রের ছবিটি ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না এবং উদ্ধার করা অস্ত্রটির সঙ্গে ওই ছবির কোনো মিল রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সাক্ষীদের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের জব্দ তালিকা, মামলার নথি, তদন্ত প্রতিবেদন এবং আদালতে অস্ত্রটি জমা দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ করা হোক।









